শ্রম অধিকার নিশ্চিতে বিএলএফ-আইবিসি চুক্তি

শ্রম অধিকার নিশ্চিতে বিএলএফ-আইবিসি চুক্তি

দেশে শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এবং ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ, ন্যায্য রূপান্তর এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইবিসির সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাদের মধ্যে নাজমা আখতার, রাশেদুল আলম রাজু, সালাউদ্দিন স্বপন, কামরুল হাসান ও খাদিজা রহমান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএলএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব জেড এম কামরুল আনাম, প্রোগ্রাম পরিচালক মো. রাইসুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চুক্তি অনুযায়ী, তৈরি পোশাক, চামড়া ও জুতা শিল্পে জেন্ডার-সংবেদনশীল মানবাধিকার যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, শ্রমিক প্রতিনিধিদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর অ্যাডভোকেসি পরিচালনা এবং শ্রমমান উন্নয়নে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং জরিপ কার্যক্রম পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) শ্রমিকদের জন্য শোভন কাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের অধিভুক্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিভিন্ন শিল্পখাতের শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করছে।

চুক্তির আওতায় বিএলএফের চলমান ও আসন্ন প্রকল্প ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক ডিউ ডিলিজেন্স বাংলাদেশ’ এবং ‘ট্রান্সফরমেশন টু অ্যান ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবল গার্মেন্টস সেক্টর’-এর বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আইবিসি সক্রিয় সহযোগিতা দেবে।

এছাড়া, নীতিনির্ধারণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে সহযোগিতা, কারখানা পর্যায়ে শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনায় উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে। বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে।

সমঝোতা স্মারকটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ২০২৭ সালে তা পুনর্বিবেচনা বা নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি-উভয় ভাষায় স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে কোনো ব্যাখ্যাগত জটিলতা তৈরি হলে বাংলা সংস্করণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন