জাতিসংঘের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কেন অভিযোগ জানাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, “সরকার কি কানে তুলো গুঁজে রেখেছে? নাকি ভাসুরের নাম নিতে ভয় পায়?” আযাদ উল্লেখ করেন, বর্ডার ইস্যুতে সরকার অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবে, এখানে নাম ধরতে ভয়। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার আইন অনুযায়ী পুশইন বেআইনি কাজ।
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আযাদ বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান সমস্যা। বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্ত হত্যার চিত্র আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, বিজিবি ২৬টি জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বেআইনি কার্যকলাপ করছে। আযাদ সীমান্তে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় ভারত সরকারের আচরণকে সমালোচনা করেন।
ফেলানি হত্যার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে মানুষের ক্ষেত-খামারে হামলার ঘটনা চলমান। ভারত দাবি করছে, তাদের ডিকশনারিতে পুশইন বলে কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্তে অপরাধজনিত কারণে হামলা হলে সেটাকে বর্ডার কিলিং বলা যাবে না, এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশে মন্ত্রী দিতে পারে, এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আযাদ বলেন, “সংবিধানের বিষয়ে অভিজ্ঞ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করছি, তিনি কি সংবিধানের ধারাটা ভুলে গিয়েছেন?” তিনি মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এবং সরকারের কার্যকরী ভূমিকার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী সীমান্তবর্তী জেলার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানব প্রাচীর তৈরি করতে। তিনি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখে সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
