অবৈধ অভিবাসন নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সীমান্তে যৌথ সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে বিজিবি এবং বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানো এবং সমন্বিত টহল কার্যক্রম শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি অভিবাসীদের সীমান্ত পুশ ইন নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চলছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষয়তর পর রাজ্য সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী বিজিবি এবং বিএসএফ-এর শীর্ষ বৈঠকে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম। বিজেপি দলের অভিযোগ, বহু বাংলাদেশি মুসলিম ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে।
বিজিবি জানায়, সম্প্রতি সীমান্তে বেশ কিছু পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্তে পুশ ইন প্রয়াস ‘অগ্রহণযোগ্য’।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, সীমান্তে পুশ ইন রোধে টহল জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে মানবপাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুই পক্ষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আগামী নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
