ব্রাজিল ফুটবল দল ‘মিশন হেক্সা’ সফল করতে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে। ১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পর থেকে ৬ষ্ঠ শিরোপা জিততে ব্রাজিল দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষা করছে। এবারের বিশ্বকাপে তারা ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সহায়তায় খেলোয়াড়দের সব তথ্য সংগ্রহ করেছে, যাতে উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি ও তার কোচিং স্টাফের কাছে খেলোয়াড়দের হৃদস্পন্দন, দৌড়ের গতিবেগ, ক্লান্তির মাত্রা এবং ইনজুরির তথ্য রয়েছে। এই তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড় ‘স্মার্ট ভেস্ট’ ব্যবহার করছেন, যা তাদের মাঠের কার্যকলাপের বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
এছাড়াও, ব্রাজিলের ক্লাবগুলো নিয়মিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের তথ্য জাতীয় দলের ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে পাঠাচ্ছে, যাতে জাতীয় দলের প্রস্তুতি আরও কার্যকর হয়। ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান গুইলহের্মে পাসোস জানান, তারা ক্লাবগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেন, যা জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য বড় সহায়ক।
প্রযুক্তির সহায়তায় ফুটবলারদের ইনজুরি পুনর্বাসনে ও স্কোয়াড নির্ধারণে সহায়তা করা হচ্ছে। পাসোস বলেন, ‘ট্র্যাকিং ডেটা থেকে আমরা খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার তথ্য পাই, যা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।’ এর ফলে, ব্রাজিলের কোচ আনচেলোত্তি তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে ব্রাজিলের ফুটবলাররা ট্র্যাকিং ভেস্ট পরে মাঠে নামবেন, যা তাদের ক্লান্তি সম্পর্কিত তথ্য সরাসরি ডেটাবেজে জমা করবে। ফলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে।
সবশেষে, যদিও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রচুর তথ্য পাওয়া যাবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কোচ আনচেলোত্তির হাতে থাকবে। তিনি মাঠের পরিস্থিতি ও খেলোয়াড়ের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
