মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী পাঠানোর পেছনে ইরানকে ‘ভয়’ দেখানোর কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী পাঠানোর পেছনে ইরানকে ‘ভয়’ দেখানোর কৌশল

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ভয়’ দেখানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠাচ্ছেন। পারস্য উপসাগর এলাকায় ইতোমধ্যে রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ অবস্থান করছে, এখন সেখানে যোগ দিচ্ছে ‘জেরাল্ড আর. ফোর্ড’। ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে রণতরিটি পশ্চিম এশিয়ায় আনা হচ্ছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পরমাণু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো ‘কঠিন’ হয়ে পড়ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তেহরানকে ‘ভয়’ দেখানো দরকার। তিনি মনে করেন, ‘একমাত্র ভয়ই পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে।’

ট্রাম্প গত বছর জুনে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কথাও সেনাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস বা আইনসভা নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সেনাদের স্বার্থ ছোট করে দেখা হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মিত্রদের সংঘাত মেটাতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, বৈঠকটি ‘একটি শুভ সূচনা’। ট্রাম্পও মনে করেন আলোচনা ভালো হয়েছে এবং আশা করেন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দূত স্টিভ ইউটকফ ও জারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন, ওমানের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতা করবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পেয়েছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের প্রেস টিভি জানায়, লারিজানি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা বানচাল করতে চায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন যুদ্ধ টেনে আনতে চায়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিবিসি জানায়, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন তিনি ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। আল জাজিরার এক মতামতে বলা হয়, মাসকাটে আলোচনা কালক্ষেপণ মাত্র, চুক্তির জন্য নয় এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।

ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত, বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ হোক এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ হোক। ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিবিসি জানায়, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইরান পরমাণু স্থাপনার কাছে ভূগর্ভস্থ ভবনের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি না হলে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রক্ষার জন্য ইরান ভূ-গর্ভস্থ অবকাঠামো তৈরি করছে।

ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, প্রবাসী ইরানিরা বিশ্বব্যাপী সভা-সমাবেশের আয়োজন করছে। ইসরায়েলি দৈনিক টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। চীনে ইরানি তেলে বিক্রির পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন