কড়াকড়ির মধ্যেই আল-আকসায় প্রথম তারাবিহ নামাজ সম্পন্ন

কড়াকড়ির মধ্যেই আল-আকসায় প্রথম তারাবিহ নামাজ সম্পন্ন

পবিত্র রমজান মাসের প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুসল্লিরা মসজিদের মূল হলরুম ও উন্মুক্ত চত্বরগুলোতে ভিড় জমান। মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনাহ এশার ও তারাবিহ নামাজের ইমামতি করেন।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নামাজ চলাকালীন ইসরায়েলি পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে টহল দিচ্ছিল। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, বিশেষ করে ওল্ড সিটি এবং আল-আকসা প্রাঙ্গণে, কঠোর নিরাপত্তা, গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও কর্মীদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে দিনের শুরুতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হোসেন ঘোষণা করেন, বুধবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তিনি জানান, ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, যা হিজরি ১৪৪৭ সালের ১লা রমজান হিসেবে নির্ধারিত।

ইউরো-মেডিটেরিনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, রমজান উপলক্ষে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও জোরদার হয়েছে, যা উপাসনালয়ে প্রবেশের অধিকারকে সীমিত করছে। জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিয়ে ২৫০টিরও বেশি আদেশ জারি হয়েছে।

গত সোমবার আল-আকসার ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে ইসরায়েলি পুলিশ আটক করে। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও মসজিদে প্রবেশে এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফিলিস্তিনিরা ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনকভাবে দেখছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সমস্ত বসতি সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

আরও পড়ুন