ইসরাইলি খেজুর ফিলিস্তিনি লেবেলে ইউরোপে প্রবেশের অভিযোগ

ইসরাইলি খেজুর ফিলিস্তিনি লেবেলে ইউরোপে প্রবেশের অভিযোগ

ইউরোপের বাজারে বিক্রি হওয়া একটি বড় অংশের খেজুরের প্রকৃত উৎস গোপন করে তৃতীয় দেশের লেবেল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘ডেড লন্ডারিং’ বা খেজুর পাচার হিসেবে অভিহিত করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত খেজুরগুলো বয়কট এড়াতে নেদারল্যান্ডস, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করছে। বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর বয়কটের মুখে ইসরাইলি রফতানিকারকরা সরাসরি ‘ইসরাইলি পণ্য’ লেখার পরিবর্তে কৌশলী লেবেল ব্যবহার করছে বলে শিল্প প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রফতানি করে, কিন্তু তাদের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত হয় মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন। অর্থাৎ রফতানি করা খেজুরের প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত বসতিগুলো থেকে। ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অন্তত ২০ টন ইসরাইলি খেজুর জব্দ করেছিল, যা ‘ফিলিস্তিনি পণ্য’ হিসেবে লেবেল দিয়ে বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০১৯ সালের আইনি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বসতির পণ্যের গায়ে স্পষ্ট লেবেল থাকা বাধ্যতামূলক। তা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্সে বিক্রি হওয়া প্রায় অর্ধেক খেজুরই ইসরাইলি বংশোদ্ভূত বলে মনে করা হয়। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স বর্তমানে এই পণ্যগুলোর অন্যতম প্রধান প্যাকেজিং হাব হিসেবে কাজ করছে। জার্মানিতে সরবরাহ করা মোট খেজুরের প্রায় ২৫ শতাংশের উৎসই কোনো না কোনোভাবে ইসরাইলের সাথে যুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

গাজা সংকটের প্রভাবে ইসরাইলের কৃষি খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটেনের ‘কো-অফ’-এর মতো বড় চেইন শপগুলো ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাজার হারানোর ভয়েই রফতানিকারকরা এখন ‘ডেড লন্ডারিং’-এর আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ক্রেতাদের খেজুর কেনার আগে প্যাকেটের উৎস এবং কিউআর কোড ভালোমতো যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ অবৈধ বসতির পণ্য ক্রয় না করেন, সে জন্য এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন