যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে আগ্রাসী অভিযান শুরু করে, সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও অবকাঠামোগত স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরানের সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন সংস্থার ইরানি প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্বৃত করে ইরাভানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধবাজ মন্তব্য একটি সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির সংকেত দিচ্ছে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরান সবসময় কূটনৈতিক পন্থার প্রতি আস্থাশীল এবং শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশে পরিচালিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সব ধরনের অস্পষ্টতা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সংলাপ শুরু হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। ওমানের রাজধানী আম্মানে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায়, তবে এখন পর্যন্ত সেখানে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে ইরানকে চাপে রাখতে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সমঝোতা চুক্তিতে না এলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে। কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে সেখানে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার যথাযোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত আছে ইরান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের হাতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। এর মধ্যে হয় তেহরানকে সমঝোতায় আসতে হবে, নয়তো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হবে।
