বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে রমজানের ইফতারের সময় ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন খাবার পৌঁছালেও, বৃদ্ধদের সন্তানদের উপস্থিতি নেই। আশ্রমটি পরিচালনা করছেন পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার সেবিন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আশ্রমের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বৃদ্ধদের মধ্যে সন্তানদের উপস্থিতির অভাব গভীর হতাশা তৈরি করেছে। বেলি খাতুন (৫৮) বলেন, ‘এমন সন্তান যেন কারো ঘরে না হয়।’
গোলাপি বেগম (৫৫) উল্লেখ করেন, ‘আমি এখানে দুই বছর ধরে আছি। স্বামী ও সন্তান নেই, তবে এখানে সবাই একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘যারা এখানে আছেন, তারা অপরাধী নয়। আমাদের উচিত তাদের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা দেখানো।’
বর্তমানে এই নিবাসে ১৮ জন প্রবীণ বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত জীবনযাপন করেছেন। তবে সন্তানদের অবহেলার কারণে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
ডা. সেবিন জানান, ‘প্রবীণরা ভিক্ষা চান না, তারা সম্মান এবং স্নেহের স্পর্শ চান। রমজান মাসে প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ ইফতার পাঠান, কিন্তু সন্তানদের উপস্থিতি খুবই কম।’
এই বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিটি সন্ধ্যা প্রবীণদের জন্য শুধু ইফতারের আয়োজন নয়, বরং সন্তানদের অপেক্ষার গল্প। রমজানে বৃদ্ধ-বয়সে বাবা-মায়ের আসল চাওয়া কি শুধুই খাবার, নাকি একটু ভালোবাসা এবং স্নেহের স্পর্শ?
