বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে গত নভেম্বরে ৫.৭ রিখটার স্কেলে একটি ভূমিকম্প ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টের পাওয়া যায়। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়। বিভিন্ন জেলায় অনেক ভবনে ফাটলের খবরও পাওয়া গেছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত অন্তত নয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ১৯৩০ সালের পর এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি, তবে ভূ-অভ্যন্তরে চাপ জমা হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। রেড ক্রসের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি।
ভূমিকম্পের আগে বাড়ি বা কর্মস্থলের নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করা, অন্ধকারে দেখার জন্য টর্চ রাখা, দেয়ালে ঝোলানো জিনিসগুলো নিরাপদ স্থানে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। এছাড়া, জরুরি প্রয়োজনের জন্য শুকনা খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখা উচিত।
ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ভেতর থাকলে ড্রপ, কাভার ও হোল্ড–অন পদ্ধতি অনুসরণ করা, বিছানায় থাকলে বালিশ ব্যবহার করা এবং বহুতল ভবনের ওপরের দিকে থাকলে ঘরের ভেতর অবস্থান করা উচিত। বাড়ির বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া এবং ভারী জিনিসের নিচে না দাঁড়ানো উচিত।
ভূমিকম্পের পরে প্রস্তুতি নিতে হবে আরও কম্পনের জন্য। আহত হলে নিজেকে পরীক্ষা করা, অন্যকে সাহায্য করা এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়া অপরিহার্য। গ্যাসের গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যাওয়া এবং বৈদ্যুতিক স্পার্ক হলে মেইন সুইচ বন্ধ করা উচিত। এছাড়া, ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
যদি ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন, তাহলে ধুলাবালির মধ্যে পড়লে কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেয়া এবং উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
