২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার অর্ধেকই স্কুলের শিক্ষার্থী। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আজ সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্কুলের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে ১৯০ জন স্কুল, ৯২ জন কলেজ, ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৪ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৪০৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি, যেখানে ৪১ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন।
আঁচল ফাউন্ডেশন জানায়, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, হতাশা এবং একাডেমিক চাপ প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ১১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা মোট ঘটনার ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন আত্মহত্যা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, যারা শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
