মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন বাহিনীর মৃত্যু হতে পারে। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তার প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী মার্কিনদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধে প্রাণহানি অস্বাভাবিক নয় এবং মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার লক্ষ্যেও পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তিনি সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা বা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি। তিনি দাবি করেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’ চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনা ইরানের পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত। খবরে আরও বলা হয়, খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোয়, তবে হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
