আজ শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক হামলা শুরু করেছে ইরানের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের নাম ‘লায়নস রোর’। এর জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান, যা তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামে চালাচ্ছে।
ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানায়, বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এপি জানায়, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল, কিন্তু তারা সেই যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনও শত শত মাঝারি থেকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় অক্ষত রয়েছে, যা ইসরায়েলের ভেতরে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করতে সক্ষম।
এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রাখা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইরান দুর্বল হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত ক্ষতি করার উপায় এখনও তাদের হাতে রয়েছে। তবে, ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞ জন অল্টারম্যান মনে করেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে সীমিত এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
