ট্রাম্পের ইরানে হামলা, ইসরাইলের স্বার্থে যুদ্ধের অভিযোগ

ট্রাম্পের ইরানে হামলা, ইসরাইলের স্বার্থে যুদ্ধের অভিযোগ

২০২৬ সালের মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নতুন যুগের ঘোষণা করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, ওয়াশিংটন আর কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করবে না। তিনি যুদ্ধবাজ পূর্বসূরিদের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশে ধ্বংসই বেশি করেছেন।

কিন্তু এক বছরের মধ্যে ট্রাম্প ইরানে সর্বাত্মক হামলার নির্দেশ দেন এবং দেশটিতে ‘স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনার দাবি করেন। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প এখন হস্তক্ষেপকারীদের ভাষা ব্যবহার করছেন, যাদের তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়ে আক্রমণ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে মেলে না এবং এটি মূলত ইসরাইল ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্বার্থে হচ্ছে। ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’র সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি বলেন, এটি ইসরাইলের প্ররোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা একটি যুদ্ধ।

ট্রাম্পের অবস্থানকে মোর্তাজাভি ‘পরিহাস’ হিসেবে দেখছেন, কারণ তিনি নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছিলেন। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পেছনে নেতানিয়াহুর সক্রিয় প্রচারণা ছিল এবং গত দুই দশকে তিনি ইরানকে আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছিলেন।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালায়, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘বিধ্বস্ত’ করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন জনগণ ইরানের সাথে নতুন যুদ্ধে বিরোধী। মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির এক জরিপে মাত্র ২১ শতাংশ মার্কিনি এই যুদ্ধ সমর্থন করেন।

যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে, যা পুরো অঞ্চলকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে, তবে আমরা এটি ভবিষ্যতের জন্য করছি।

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি মাসের শুরুতে কূটনীতির পথে হাঁটছিল, কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর সমালোচনার মুখে পড়েছে। ‘ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল’-এর প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি জানান, নেতানিয়াহুর এজেন্ডা সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধান প্রতিরোধ করা।

কংগ্রেসের নারী সদস্য রাশিদা তলাইব বলেন, ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছেন এবং যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন