আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত

৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও মূল ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় খামেনির হত্যার চেষ্টা হতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের ব্যবস্থা চালু হয়, যখন রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকে দুটি সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের পদবী হিসেবে ‘আয়াতুল্লাহ’ ব্যবহার করা হয়।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি প্রয়োজন ছিল। ইরান পারমাণবিক ক্ষমতা অধিকারী হবে কিনা, জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তিনি দিতেন।

খামেনির মৃত্যুর পর পরবর্তী নেতা কে হবেন এবং কীভাবে নির্বাচিত হবেন সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় জনগণের নেতা নির্বাচনে কার্যত কোনো এখতিয়ার থাকে না।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, যদিও তিনি ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ উপাধি অর্জন করতে পারেননি। পরে সংবিধানে পরিবর্তন এনে তাকে নির্বাচিত করা হয়।

খামেনির শাসনামলে ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে মোহাম্মদ খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। তবে খাতামির সংস্কার উদ্যোগে খামেনি বাধা হয়ে দাঁড়ান।

২০১৩ সালে হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তির সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন, কিন্তু খামেনি তার উদ্যোগে বাধা দেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গেলে ইরানি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

২০২০ সালে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হলে খামেনি প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। তিনি ইসরাইলকে ‘ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার’ আখ্যা দিয়ে ধ্বংসের আহ্বান জানান।

২০২১ সালে এব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তবে তার মৃত্যু পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ দ্বারা নির্বাচিত পরবর্তী নেতা কে হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে রক্ষণশীল সদস্যদের প্রভাব ছিল খামেনির অধীনে।

আরও পড়ুন