ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ঢাকাসহ দূরপাল্লাগামী কোচের কাউন্টার হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই দেখা গেছে, টার্মিনালের কাউন্টারগুলো ফাঁকা, এবং আগের মতোই ব্যস্ত সড়ক দখল করে চলছে যাত্রী ওঠানামা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “শহরের মধ্যে গাড়িগুলো প্রবেশ করলে যে অসুবিধা সৃষ্টি হয় তা আমাদের কষ্ট দেয়। বাস-ট্রাকের যারা মালিক বা শ্রমিক আছেন, তাদের আমি অনুরোধ করবো বাস-ট্রাক টার্মিনালে রাখলে আমাদের শহরটা আরও উন্নত হবে।”
তবে উদ্বোধনের ছয় ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন উদ্বোধন হওয়া কোচ কাউন্টারগুলো অন্ধকারে নিস্তব্ধ পড়ে আছে। সেখানে কোনো যাত্রী বা দূরপাল্লার বাসের উপস্থিতি নেই। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে আগের মতোই দাঁড়িয়ে রয়েছে ঢাকাগামী কোচ, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক পথচারী জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য রাস্তা পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। খোকন নামে এক পথচারী বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় আহ্বান জানিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু আহ্বান দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়।”
ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, শহরের যানজট নিরসনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাউন্টার সরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. দানেশ আলী বলেন, “ঈদুল ফিতর থাকায় যাত্রীচাপ বেশি, তাই হঠাৎ রুট পরিবর্তন বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।”
কিছু কোচ কাউন্টারের ম্যানেজার জানান, লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই উদ্বোধন হয়েছে, যা কার্যক্রম চালু করতে সমস্যা সৃষ্টি করছে। ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, “টার্মিনালের ঘর ও কাউন্টারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।”
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত রহমান জানান, প্রথম দিন হওয়ায় অনেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি, তবে আগামীকাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কথা রয়েছে। যদি সড়কে বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে, তাহলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
