ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশের ভবিষ্যৎ শাসনক্ষমতা নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে আজ রোববার সকালে এ বিষয়ক জটিল পরিস্থিতি সামনে আসে।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা স্পষ্ট নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন মাত্র একবার ঘটেছে, যখন আয়াতুল্লাহ খোমেনি মারা যান ও আলি খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এখন, খামেনির মৃত্যুর পর একটি অস্থায়ী পরিষদ গঠিত হয়েছে, যার সদস্যরা দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করবেন। এই পরিষদে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি ইজেজি এবং অভিভাবক পরিষদের সদস্য আলি রেজা আরাফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অস্থায়ী পরিষদ শাসনভার গ্রহণ করলেও, ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। এই প্যানেলটি সম্পূর্ণ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত এবং সদস্যরা প্রতি আট বছরে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন।
গত বছর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার অবস্থান জানতেন, তবে হত্যার পরিকল্পনা ছিল না বলে জানান।
নতুন নেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেও, ইসলামী বিপ্লবী গার্ডসহ অন্যান্য সংস্থার কাছে উত্তরসূরি গ্রহণযোগ্য হতে হবে। খামেনির পরে তার ছেলে মোজতাবা খামেনি এবং অন্যান্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় এসেছে, তবে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের কয়েকজন সদস্যও সম্ভাব্য নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, এবং হাসান খোমেনি সংস্কারবাদীদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তবে তার সীমিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিতে পারে।
