জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ শহরে ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জন ইসরায়েলির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলার আগে কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজেনি। এ ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অভেদ্য’ নয় এবং শহরের দিকে ধেয়ে আসা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখতে পারে না।
ইরান দাবি করেছে যে, তাদের কাছে এমন ব্যালিস্টিক ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ইসরায়েলি শহরগুলোর প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ইসরায়েল সরকারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষামূলক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো—বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বেইত শেমেশের হামলার প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থার ব্যর্থতার তিনটি প্রধান কারণ হলো: একসাথে অনেক হামলা, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি।
ইরান যদি একসাথে কয়েকশ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার সেগুলোকে ট্র্যাক করতে পারে না। একইসাথে, ইরান দাবি করছে তারা এমন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়াও, বেইত শেমেশের হামলার সময় সাইরেন না বাজানোর পেছনে সেন্সর ফেইলর এবং শনাক্তকরণে বিলম্বের কারণ থাকতে পারে।
অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ইসরায়েলের ব্যবহৃত একটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের খরচ অনেক বেশি। সুতরাং, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোটেও ‘অভেদ্য’ নয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
