ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। এ ধরনের হামলার আন্তর্জাতিক আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একাধিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক মার্কো মিলানোভিচ বলেন, ‘এই হামলাগুলো স্পষ্টতই অবৈধ, কারণ এগুলো জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।’ তিনি জানান, বৈধ আত্মরক্ষার শর্ত এখানে পূরণ হয়নি।
শনিবারের পর ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় অন্তত ৬৩ জন কন্যাশিশু নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শাসন পরিবর্তনও এই হামলার লক্ষ্যগুলোর একটি।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলা সাহসী ইরানি জনগণকে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দেবে।
জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলো শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না, তবে দুটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে—যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন দেয় এবং যখন সশস্ত্র হামলার সম্মুখীন হয়।
মিলানোভিচ উল্লেখ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পূর্বে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র হামলা হয়নি। এ কারণে রাষ্ট্রগুলো ‘পূর্বানুমানভিত্তিক আত্মরক্ষা’ তত্ত্বের ওপর নির্ভর করতে হয়।
অভিযানের একটি যুক্তি ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং তারা বরাবরই বলেছে, তাদের কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
মিলানোভিচ বলেন, ‘ইরানের এখনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই, এবং থাকলেও তা ব্যবহারের প্রমাণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে।
