ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সোমবার তৃতীয় দিনের মতো মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরানও পাল্টা আঘাত করছে।
ইরানে রাজধানী তেহরানে একটি হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যৌথ সামরিক অভিযানে ৪৮ জন ইরানি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সানান্দাজে ‘শত্রু বাহিনীর’ হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, তারা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করবে না।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং কাতার তাদের আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে।
ওমানে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং সেখানে আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাহরাইনেও হামলা হয়েছে, যেখানে একটি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তাদের হামলা খুব সুক্ষ্মভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ‘অনন্ত যুদ্ধে’ রূপ নেবে না।
লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। বৈরুতের দক্ষিণে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে এবং সিরিয়ায় এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আহত হয়েছে এক ব্যক্তি ও তার তিন মেয়ে।
জর্ডানে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত জটিল হচ্ছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
