ইরানে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগপৎ হামলার পর দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন করছেন, প্রাচীন সভ্যতার এই দেশের অখণ্ডতা রক্ষা পাবে কি না।
২৫ ফেব্রুয়ারি, ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আপোস হবে না। আমরা ইরানের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বো না।’ তিনি বলেন, ইরানের ভৌগোলিক বিভাজন মেনে নেওয়া হবে না এবং যারা এ কাজে সমর্থন দেবে তাদের প্রতিরোধ করবে জনগণ।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি জানান, সশস্ত্র বাহিনী ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত’ ইরানের অখণ্ডতা রক্ষা করতে লড়াই করবে। ৪৭ বছর আগে ইরানের জনগণের আন্দোলনে দেশছাড়া হয়েছিলেন রেজা শাহ পাহলভি। তখন তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনের অভিযোগ উঠেছিল।
পূর্বের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ভেঙে টুকরো করার ধারণা ‘বলকানীকরণ’ হিসেবে পরিচিত। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ রাজনৈতিক হলেও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিদ্রোহের সম্ভাবনা কম। অধিকাংশ ইরানি ‘এক পতাকা’ তলে থাকার মানসিকতা নিয়ে রয়েছেন।
ইরানে প্রধান জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে আজেরি, কুর্দি, আরব ও বেলুচ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করে এবং তারা দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং ভাষা-সংস্কৃতির ওপর সরকারি ফারসি ভাষার প্রভাব তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি, তেহরান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানকে ‘বলকানের’ মতো ভেঙে ফেলার ‘কৌশলগত ভ্রান্তি’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জাতিগত বৈচিত্র্য ঐতিহাসিক এবং এটি কোনো কাঠামোগত ত্রুটি নয়।
এছাড়া, ইরানের পুব থেকে পশ্চিম সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। কুর্দি-অধ্যুষিত পূর্ব কুর্দিস্তান ও বেলুচ-অধ্যুষিত সিস্তান-বেলুচিস্তানের সংঘাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে।
এভাবে, ইরানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।
