মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ বিপর্যয়ের মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল শুরু করেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আকাশপথে বিশৃঙ্খলা ও সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘দুবাই ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল’ থেকে কিছু ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। তবে যাত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিমান সংস্থা থেকে সময় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা না করার জন্য।
এমিরেটস এয়ারলাইন্স সোমবার সন্ধ্যা থেকে সীমিত ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এবং যাদের আগে থেকেই বুকিং আছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বুধবার (৪ মার্চ) পর্যন্ত তাদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে, তবে কিছু বিশেষ ফ্লাইট পরিচালিত হতে পারে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’ অনুযায়ী, সোমবার আবুধাবি থেকে লন্ডন, আমস্টারডাম, মস্কো ও রিয়াদের উদ্দেশ্যে অন্তত ১৬টি ফ্লাইট ছেড়ে গেছে। এছাড়াও, মঙ্গলবার দুবাই থেকে মুম্বাই ও চেন্নাইতে এমিরেটসের দুইটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে। তবে পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণে আজ সকালে আবুধাবিগামী দুটি ফ্লাইট মাস্কাটে ডাইভার্ট করা হয়।
এভিয়েশন বিশ্লেষক টনি স্ট্যান্টন আলজাজিরাকে বলেন, ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয় ভৌগোলিকভাবে কেন্দ্রীভূত হলেও এটি অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ এটি বিশ্বের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম আকাশপথকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে ইরাক, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এভিয়েশন তথ্য সংস্থা ‘সিরিয়াম’ জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই অবস্থায় জার্মানি তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সৌদি আরব ও ওমানে বিশেষ চার্টার্ড বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
