খামেনির হত্যার প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে বিপরীত ফলাফল

খামেনির হত্যার প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে বিপরীত ফলাফল

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার ফলে সাময়িকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য কিছু সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা বিপরীত ফলাফল ডেকে আনতে পারে। এই মতামত প্রকাশ করেছেন পুরস্কারজয়ী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক দাউদ কুতুব।

মতামতে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে শত্রুর নেতৃত্বকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা সাধারণত নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে কার্যকর হতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে এটি অতীতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। খামেনির হত্যার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা ‘সাফল্য’ লাভ করেছেন। তবে খামেনি অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর উত্তরাধিকারের বিষয়টি ভাবছিলেন।

খামেনির হত্যার অর্থ এই নয় যে, ইরানে একটি নতুন নেতৃত্ব আসবে যা ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থকে সমর্থন করবে। বরং, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, যা সহিংসতা ও অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইরাকের উদাহরণ দেখলে দেখা যায়, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পর ইরানপন্থী শক্তির উত্থান ঘটেছিল। মার্কিন আগ্রাসনের ফলে আইএসের উত্থান এবং হামাসের নেতাদের হত্যার চেষ্টা করে ইসরায়েলও একই পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে।

খামেনির উত্তরসূরির সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আলোচনা সহজ হবে না। অতীতে খামেনির অধীনে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু নতুন নেতা পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

নেতানিয়াহুর জন্য খামেনির হত্যাকাণ্ড একটি রাজনৈতিক সাফল্য, তবে ট্রাম্পের জন্য তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, এবং তারা যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

সার্বিকভাবে, খামেনির হত্যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এবং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন