মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিযোগিতা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিযোগিতা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে এক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হচ্ছে, অন্যদিকে সেগুলোকে প্রতিহত করতে আকাশে ছুটে যাচ্ছে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র।

বার্তা-সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই দিনেই ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের দিকে চারশ ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ স্কট বেনেডিক্ট জানান, এটি আসলে অস্ত্রভাণ্ডারের প্রতিযোগিতা।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানান, সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কতদিন কার্যকর থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে ইরানের লঞ্চার ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধের কৌশল হলো ‘তীরন্দাজকে লক্ষ্য করা’।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ধারণা করা হয়েছিল ইরানের কাছে দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে অনেক লঞ্চার যুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়েছে এবং বর্তমানে বাকিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্সভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের গবেষক এতিয়েন মারকুজ জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘনত্ব কমেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান কি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য অস্ত্র সংরক্ষণ করছে? যদিও হামলা কমলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যে আঘাত হানছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কমপক্ষে দুটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে এসব ইন্টারসেপ্টর অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যায় উৎপাদিত হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ১৫০টি থাড মিসাইল ব্যবহার করেছে। গবেষক মারকুজ সতর্ক করেছেন যে, এই মজুত দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি জানান, রাজনৈতিক সমাধান না আসলে ইরানও দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী চাপ বজায় রাখতে পারে।

আরও পড়ুন