ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছে। বুধবার (৪ মার্চ) সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
মার্কিন সরকারের মূল কৌশল হলো কুর্দি যোদ্ধাদের মাধ্যমে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, যাতে রাজধানী তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ সরকারবিরোধী বিদ্রোহে অংশ নিতে পারে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সিআইএ ইতিমধ্যে ইরাকভিত্তিক কুর্দি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় কুর্দি বাহিনীকে আধুনিক ড্রোন, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই কুর্দি বাহিনীকে ব্যবহার করে উত্তর ইরানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চায়, যা পরে শাসন পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কুর্দি গণতান্ত্রিক পার্টির (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইরানের ভেতরে স্থল অভিযানে কুর্দিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার জানিয়েছে, তারা কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, কুর্দিরা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই কুর্দিদের ওপর এই নির্ভরশীলতা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে।
