মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে একটি অদ্ভুত সংকটে রয়েছে। যুদ্ধের প্রস্তুতির পরিবর্তে, জাহাজটির পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি এখন বেশি আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এনপিআর ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার নাবিকের জন্য সচল টয়লেটের সংখ্যা অত্যন্ত কম, ফলে একেকজন নাবিককে শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জাহাজটির পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় সমস্যা গত ১৫ জানুয়ারি প্রথম জানা যায়। ওই সময়ে রণতরিটি মোতায়েন অবস্থায় এর বর্জ্য নিষ্কাশন নালাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এর জটিল ভ্যাকুয়াম সিস্টেমের কারণে ডকইয়ার্ডে না ফেরা পর্যন্ত এটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে নাবিকদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, টয়লেটের এই সমস্যার কারণে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি বা সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে, নাবিকদের শৌচাগারে এই সমস্যার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড কয়েক মাস সাগরে থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকায় জাহাজটির মিশন বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। রণতরিটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন ডেভিড স্কারোসি নাবিকদের পরিবারের কাছে একটি চিঠিতে জানান, মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবে একটি বিমানবাহী রণতরির মিশন ছয় মাস স্থায়ী হয়, কিন্তু ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন স্বাভাবিক প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে সাগরে অবস্থান করছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ১১টি বিমানবাহী রণতরির মধ্যে একটি, জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে।
দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজের ৬৫০টি শৌচাগার নিয়ন্ত্রণকারী বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায় নিয়মিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যার কারণে প্রতিদিন অন্তত একবার প্রকৌশলীদের ডাকতে হচ্ছে।
