ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ফলে প্রতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রায় ৯৪০ কোটি শেকেল বা ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ‘রেড’ সতর্কবার্তা জারি করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। অপারেশন ‘রোরিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় সেবা ব্যতীত সাধারণ নাগরিকদের কর্মস্থলে যাওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম নাগরিককে জরুরি ভিত্তিতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ফলে কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন শেকেল থেকে ৩ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির মূল কারণ উৎপাদন বন্ধ থাকা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দৈনন্দিন বাজার ব্যবস্থা ও সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে ইসরায়েলের নাগরিকদের একটি বড় অংশ দিনের বেশিরভাগ সময় বাংকারে কাটাচ্ছেন, যার ফলে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ও সেবা খাতের ব্যবসা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। যুদ্ধের কারণে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মান আরও কমতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ও ন্যাটোর আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সরাসরি ইসরায়েলি শেয়ার বাজারে প্রভাব ফেলছে।
বড় বিনিয়োগকারীরা দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং অনেক বহুজাতিক কোম্পানি তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ইসরায়েলি সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে যুদ্ধের ময়দানে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
