বঙ্গোপসাগরে গভীরে মাছ ধরার সময় অবৈধ কাঠের ট্রলিংকে কেন্দ্র করে একটি ফিশিং ট্রলারে হামলা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই জেলে নিখোঁজ এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন আহত জেলেরা।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মাঝি মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ জেলে জসিম চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানী এলাকার বেলায়েত গাজীর ছেলে এবং হিরু বয়াতী একই ইউনিয়নের দক্ষিন জ্ঞানপাড়া এলাকার আজীজ বয়াতীর ছেলে।
আহত মাঝি মনির আকন জানান, তারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মুন্না নামের অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং তাদের জালের ওপর উঠে যায়। বাধা দিলে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
তিনি বলেন, “আমরা ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও তিনটি ট্রলিং আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা ট্রলারে উঠে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।” হামলার একপর্যায়ে ট্রলারে থাকা জেলে জসিম ও হিরু প্রাণভয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন। মাঝি মনির আকন নিজেও পানিতে পড়ে যান। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তিনি ট্রলারে এসে দেখেন পাঁচজন জেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং অপর দুই জেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারে মোট ১৪ জন জেলের মধ্যে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান দোলন জানান, তিনজন জেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, হামলার ঘটনায় আহত জেলেরা হামলাকারী ট্রলারের নাম চিহ্নিত করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সমুদ্রে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
