ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। পরদিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ ও ‘মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তিনি হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেননি, যা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো শোকবার্তায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।
রাশিয়া ও ইরান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তবে এই চুক্তি অনুযায়ী মস্কোকে সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য করা হয়নি। গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ও পুতিন তা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, তবে তিনি তখনও আমেরিকার নাম উল্লেখ করেননি।
খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মস্কোর পাঁচটি মিত্র দেশের সরকারের পতনের পর পুতিনের বিবৃতিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি অতীতে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন, তবে हाल recent সময়ে তিনি এমন মন্তব্য থেকে দূরে রয়েছেন।
লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুতে পুতিন বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন যে আমেরিকার ড্রোন গাদ্দাফির গাড়িবহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের সময়ও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছিলেন।
বাশার আল-আসাদের পতনের সময় পুতিন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও পুতিন দায়ীদের সম্পর্কে নীরব রয়েছেন।
কার্নেগি বার্লিন সেন্টারের আলেকজান্ডার বাওনভ উল্লেখ করেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক ভাষ্য বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়। পুতিনের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা কমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিনি একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
ক্রেমলিনের সতর্ক প্রতিক্রিয়া এবং পুতিনের অবস্থান বিশ্লেষকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, যা তার সামরিক কৌশলের অকার্যকারিতা প্রকাশ করছে।
