৩০ পেরিয়ে নতুন বন্ধু তৈরি করা কঠিন কেন? এই প্রশ্নটি অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বয়স যদি ৩০ বছর পেরিয়ে যায়, তাহলে অনেকের অভিজ্ঞতার ঝুলি হয়ে যায় সমৃদ্ধ। চাকরি শুরু করে পদোন্নতি পাওয়ার পাশাপাশি গড়ে ওঠে কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। তবে, এই বয়সে এসে নতুন বন্ধু তৈরি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
মধ্য চল্লিশে পৌঁছানো নওশাদ কামাল বলেন, ‘আগের দিনগুলোয় আমি দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলাম। এখন আমাকে পরিবারের যত্ন নিতে হয় এবং অন্যান্যদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও পাচ্ছেন না।
এটি একটি কঠিন সত্য যে, জীবনের সাথে সাথে আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে। শৈশবে জীবন ছিল সহজ, যেখানে বন্ধুত্ব তৈরি হত সহজেই। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হলে সম্পর্কগুলো হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক এবং যান্ত্রিক, যেমন উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রভাষক আহমেদ বশীর।
তিনি বলেন, ‘আগে ছুটির দিন মানে ছিল বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা, কিন্তু এখন মনে নেই শেষ কবে আড্ডা দিয়েছি।’ এর বিপরীতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও বড়দের জীবনে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের সংখ্যা বাড়তে থাকে, অকৃত্রিম বন্ধুত্ব কমে যায়।
কর্মজীবী নারী ফারহানা ইয়াসমিন জানাচ্ছেন, ‘অন্য মায়েদের সাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু প্রতিযোগিতা ও বিচার নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের চাপ থাকে।’
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা একটি হতাশার বিষয়। মাহমুদ নামের একজন যুবক বলেন, ‘আমি চাকরি ছেড়ে নতুন উদ্যোগ শুরু করেছি, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় সাবেক সহকর্মীরা আমাকে নিয়ে হাসছে।’
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সম্পর্কের মানসিক চাহিদা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে। লুবনা আলম নামের একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘অনেক সময় আলাপ শুরু হয় বিবাহিত হওয়া বা সন্তান প্রসঙ্গে, যা বন্ধুত্ব গড়তে বাধা দেয়।’
সফলতার মানদণ্ডগুলো আমাদের মানসিকতা বদলে দেয় এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যারিয়ারের চাপের কারণে বন্ধুত্ব গুরুত্ব হারায়, ফলে দেখা হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
তবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার শাইরা হাসিন বলেন, ‘বন্ধুত্ব বিবর্তিত হয়, মাঝে মাঝে যোগাযোগ না থাকলেও তা টিকে থাকে।’
শৈশবের সহজ বন্ধনগুলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নতুন বন্ধুত্ব গড়া অসম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত, বন্ধুত্ব গড়তে দুই পক্ষ থেকেই সময় ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।
