অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সিসি টিভি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনের জন্য রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুলে দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হাই-ডেফিনিশন সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সরোয়ার জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বচ্ছতার অভাবে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো জর্জরিত। সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। এছাড়া অফিসগুলোয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। যথাযথ তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, এটি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের আওতায় সমান সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত ২৬ এপ্রিল আইনজীবী আল মামুন সরোয়ার বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে দেওয়া সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আসেন।
ঢাকার সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের খবরে অনুপ্রাণিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন আইনজীবী আল মামুন। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে আমরা রোল মডেল হিসেবে পেয়েছি। নিজ উদ্যোগে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরগুলো বাইরে জনগণের দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।’
সিসি ক্যামেরা দিয়ে দুর্নীতি রোধ সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে আইনজীবী আল মামুন বলেন, ‘দুর্নীতি মানুষের অন্তরের বিষয়। এটাকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’ প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন এখানে একটি আর্টিফিশিয়াল উইটনেস হিসেবে কাজ করবে। এর সাক্ষ্যগত মূল্য আছে। জনগণের কাছে সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং কাজে স্বচ্ছতা আনতে সিসি ক্যামেরা একটি মাধ্যম হতে পারে।’
