আইনজীবীর সনদ স্থগিতের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবী হলো আইনি লড়াইয়ের শেষ ভরসা। কিন্তু যদি আইনজীবী পেশায় অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন, তখন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
আইনজীবী হতে হলে প্রথমে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি বা আইন বিষয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হয়। বিদেশি ডিগ্রি থাকলেও বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এরপর ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার পর বার কাউন্সিলের তিনটি ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এর প্রধান কাজ হলো আইনজীবীদের সনদ দেওয়া এবং তাদের আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ করা। যদি আইনজীবী অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে বার কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
বার কাউন্সিলের সনদ স্থগিত হলে আইনজীবী আদালতে প্র্যাকটিস করতে পারেন না এবং আইনগত সেবা দিতে পারছেন না। স্থগিতাদেশ চলাকালে আইনজীবী বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে কিছু সুবিধা হারাতে পারেন।
বার কাউন্সিলের নিজস্ব ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সনদ স্থগিত, তিরস্কার বা বহিষ্কার করা হতে পারে। তদন্তের সময় অভিযুক্ত আইনজীবী সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করতে পারেন।
মক্কেল যদি মনে করেন আইনজীবী তার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, তবে তিনি বার কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনজীবীর সনদ বাতিল করা হতে পারে। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগের ক্ষেত্রে মক্কেলকে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
বার কাউন্সিলের কঠোর সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া। আইনজীবীদের ভুল পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বার কাউন্সিলকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
