দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা শিশুদের জন্য হামসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রুটিন টিকাদান কর্মসূচির জন্য সংরক্ষিত দুই কোটি ডোজ টিকা বর্তমানে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। যদি আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন টিকা সংগ্রহ না করা যায়, তাহলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
ইপিআই-এর মাধ্যমে বর্তমানে ১২টি রোগের বিরুদ্ধে নয়টি টিকার সাহায্যে কার্যক্রম চলছে। শিশুদের জন্য সাতটি টিকার মধ্যে রয়েছে বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি, ওপিভি, আইপিভি, টিসিভি এবং এমআর টিকা। কিন্তু আইপিভি ও টিসিভি ছাড়া বাকি পাঁচটি টিকার মজুত কেন্দ্রীয় গুদামে শূন্য রয়েছে।
ইপিআই-এর সহকারী পরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মজুত না থাকলেও মাঠপর্যায়ে কিছু টিকা রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং দ্রুত টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, দেশে সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ছয় মাস টিকাদানে কোনো সমস্যা হবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইপিআই-এর তথ্য নাকচ করে দেন।
এক ইপিআই কর্মকর্তা বলেছেন, নিয়মিত টিকা কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে কিছু টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, টিকা ক্রয়ের জন্য অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী বলেছেন, হামের টিকার ঘাটতি না থাকলেও অন্যান্য সব টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি সরকারের কাছে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
