গ্রামে কমিয়ে শহরেও লোডশেডিং করা হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

গ্রামে কমিয়ে শহরেও লোডশেডিং করা হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

সরকার গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং বৈষম্য দূর করতে শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বক্তৃতা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তাই সমাজ—অর্থাৎ শহর ও গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না।’

মন্ত্রী জানান, শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে করে কৃষকরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে। গতকাল বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একটি আমদানিকৃত পাওয়ার প্ল্যান্ট ও একটি কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট মেইনটেন্যান্সের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র শিগগির পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে, আশা করছেন আগামী সাতদিনের মধ্যে লোডশেডিংয়ের হার কমে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে আমাদের অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এই সমস্যা একদিনের নয়; বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলাফল।’

বর্তমান সরকারের নীতি অনুসারে, কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত না করার লক্ষ্যে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিরোধীদলের নেতার সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকা শহরে ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিক পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার ৬১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই, তবে সরকার ইনফ্রাস্টাকচার বৃদ্ধির জন্য ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করেছে।

আরও পড়ুন