রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি কমেনি, যদিও সরকার গত রাতে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামের পর ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আজ রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির সংকট দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবুও গ্রাহকরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করছেন। তালতলার বেগম রোকেয়া সরণির মেসার্স হাসান ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের অপারেটর সুজন মিয়া জানান, তারা বর্তমানে গড়ে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল পাচ্ছেন, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।
একই পাম্পে অপেক্ষমাণ মেরাজ হোসেন বলেন, গতকাল সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাননি। শেওড়াপাড়ার মেসার্স সোবহান ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীও সরবরাহের সংকটের কথা জানান।
রাইড শেয়ারের চালক আখতার হোসেন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল ১১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে এবং আয়ও হ্রাস পেয়েছে।’ আগে তিনি দৈনিক ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা আয় করতেন, এখন তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় নেমে এসেছে।
রাইডাররা জানান, বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকায় যাত্রীদের কাছে বেশি ভাড়া চাইতে পারেন না, তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর তারা ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিয়মিত যাত্রী রাশিদুল হাসান জানান, আগে তার ২০০ টাকা ভাড়া লাগলেও আজ ২৩০ টাকা দিতে হয়েছে।
মিরপুর মাজার রোড থেকে কাজীপাড়ায় যাওয়ার শহীদ হোসেন বলেন, ‘সাধারণত ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ভাড়া লাগে, আজ ১৫০ টাকায় আসতে হয়েছে। তবে সেটাও সহজে হয়নি, ১০-১২ জন চালকের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হয়েছে।’
