পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অরাজকতার অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্যে শাসন করছেন তিনি এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধীরা রাজ্যে শাসক পরিবর্তনের দাবি তুলছে, যা মমতার জন্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন শেষ করে মমতা ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে বিরোধী পক্ষ তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে। মমতা অভিযোগ করেছেন যে বিরোধীরা ভিন রাজ্য থেকে লোক এনে নির্বাচনে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করে মমতার বিকল্প নেই, অন্যদল আগামী ৫ মে নির্বাচনে বিকল্পদের পরিচয় জানতে চায়। তৃণমূলের সমর্থকরা আশাবাদী, যেখানে বিজেপির সমর্থকরা মমতার শাসনের অবসান দাবি করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ বেড়েছে। তৃণমূলের জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে মুসলিম ভোটারদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি মুসলিম ও দলিত ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠছে।
২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা নির্বাচনে ১৫২ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপি নেতারা রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম ভোটারদের সমর্থন হারালে মমতার শাসন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
মমতার ভবিষ্যত নির্ভর করছে ৪ মে, যখন ভোটের ফলাফল ঘোষণা হবে। তখনই বোঝা যাবে ভোটবাক্সে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ আসলে কার ছিল।
