দেশের কারখানাগুলো লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক কারখানা ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে হা-মীম গ্রুপের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের ছাদে স্থাপিত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
হা-মীম গ্রুপ ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ জানান, ‘এখন আমরা বেশ ভালো সুবিধা পাচ্ছি। লোডশেডিংয়ের সময় এটি চমৎকার ব্যাকআপ দিচ্ছে।’ তাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যায়, যা বিদ্যুৎ বিল কমাতে সহায়ক।
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কারখানাগুলো এই সংকট থেকে রক্ষা পাচ্ছে। চট্টগ্রামের কেপিজেডে স্থাপিত ৪৪ মেগাওয়াটের রুফটপ সোলার প্যানেলও এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কেপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘যুদ্ধ বা লোডশেডিংয়ের কারণে সৃষ্ট ডিজেল সংকটে আমরা ভুগছি না।’ তবে চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর জানান, তাদের কারখানার সৌর প্যানেল দিনের বেলায় মোট চাহিদার ২০ শতাংশ মেটাচ্ছে।
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এখনও অনেক পিছিয়ে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য উৎসের অবদান মাত্র ৩ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক। উদ্যোক্তারা জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উচ্চ খরচ প্রধান বাধা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে শুল্ক কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগকারীরা এখন সুফল পাচ্ছেন। এছাড়াও, স্রেডার চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের জন্য এ সময়টি একটি বড় সুযোগ।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বর্তমান সংকটের ধাক্কা সামলাতে পেরেছেন। তবে নীতিগত ছাড় প্রদান করা প্রয়োজন, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়।
