আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলায় দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করা গরু কেজি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলার হাম্বা ফার্মসহ কয়েকটি খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী গরু বিক্রির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ক্রেতারা সরাসরি ওজন মেপে মূল্য পরিশোধ করছেন, যা প্রতারণার ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।
খামারিরা জানান, এই পদ্ধতিতে ক্রেতারা তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের পশু কিনতে পারছেন। হাম্বা ফার্মে দেশীয় কোরবানির গরু ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খামারের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ২২০টি গরু প্রস্তুত করেছি, এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। বড় গরুর চাহিদা বেশি।’
গ্রীন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার জানান, তাদের খামারে ২০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত গরু রয়েছে। ৪০০ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫০০ কেজির বেশি গরু ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা এসে গরু দেখে পছন্দ করেন এবং ঈদের আগে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খামারিদের দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে নজরদারি চলছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
এ বছর নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। ফলে অতিরিক্ত ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খামারিরা আশা করছেন, বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার ন্যায্য মূল্য পাবেন।
