ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্ষবরণের সকালে রমনার বটমূল থেকে তিনি একটি ভয়হীন ও সহনশীল সমাজ গড়ার ডাক দিয়ে বলেন, আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে গান গাইতে পারবে এবং বিনা বাধায় সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারবে।
আজ পহেলা বৈশাখ সকালে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও ভয়হীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি গত এক বছরে ঘটনার উদ্বেগজনক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সম্প্রীতির ওপর হুমকি ক্রমশ বাড়ছে।
ছায়ানট সভাপতি বলেন, গত বছর পহেলা বৈশাখ ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ হলেও পরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একের পর এক হামলা হয়, যার মধ্যে ছায়ানটের বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর এবং নালন্দা বিদ্যালয়ের শিশুদের বইপত্র ছিঁড়ে ফেলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া উদীচীর ওপর হামলা ও বাউলশিল্পীদের হেনস্তার ঘটনাও সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার স্মৃতি আজও জাতিকে তাড়া করে। এই ঘটনার স্মৃতি সাংস্কৃতিক জমায়েতগুলোর নিরাপত্তাহীনতার কথা মনে করিয়ে দেয়। সারওয়ার আলী বাঙালির জাতিসত্তার সঙ্গে সংগীতের সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, সংগীত সব সময় বাঙালির আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধসহ সব অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গান সাহস জুগিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ভয়ভীতি দেখিয়ে বাংলা গানকে স্তব্ধ করতে চাইছে এবং এর ফলে সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের কারণে সংঘবদ্ধ হয়রানির ভয় মানুষের মনে চেপে বসছে।
ভাষণে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কথাও উল্লেখ করে সারওয়ার আলী বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে পারস্য সভ্যতা ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত এবং সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি।
