ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে হেনস্থা, মারধর ও বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগে দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে পৃথকভাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এমপি মুহাম্মদুল্লাহ তার লিখিত বক্তব্যে জানান, মঙ্গলবার তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে মোতাহার হোসেন তালুকদারের সাথে দেখা হলে সৌজন্য বিনিময়ের চেষ্টা করেন। তবে তালুকদার তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তালুকদারের ইশারায় তার নেতাকর্মীরা তাকে হলরুমে প্রবেশে বাধা দেয় এবং তার সঙ্গে থাকা কর্মী হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি খারাপ হলে নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। পরে জাতীয় সংগীত শেষ করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে তার সমর্থকরা তারাকান্দা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে মিছিলের শেষদিকে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এমপি। এতে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, তিনি সবসময় বিএনপির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও মোতাহার হোসেন তালুকদার ধারাবাহিকভাবে বিরূপ আচরণ করে আসছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর জেলা প্রশাসকের সামনে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার ইফতার মাহফিলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মোতাহার হোসেন তালুকদার সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এমপির লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় তিনি তা থামিয়ে দেন। তবে বিকেলের মিছিলে কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন এবং মারধরের শিকার ব্যক্তির শরীরে মুরগির রক্ত মাখানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
