পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে কেঁদে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ছাত্রদল কর্মী

পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে কেঁদে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ছাত্রদল কর্মী

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদবঞ্চিত হয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কেঁদে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহসান উল্লাহ (নয়ন) নামে এক কর্মী। তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনও নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এতো দিন আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন। পরবর্তীতে ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লাইভে আহসান উল্লাহ আরও বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সাথে লক্ষ লক্ষ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন-যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই। আপনাদের এই বিচার এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম। ছাত্রদল করতে গিয়ে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি। ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সব কিছু ছেড়ে এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কি আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আপনারা দল ইউনিট সব ধ্বংস করে দিছেন। আমরা বাড়িতে থাকতে পারি নাই, ঘরে থাকতে পারি নাই। আমাদের শিক্ষাজীবন সব কিছু দিয়েও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে তো আমাদের এই দুনিয়াতে বেঁচে থাকার অধিকার নাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ বলেন, ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এলাকাবাসী আমার ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখায়। ফলে ১৩ দিন পর আমাকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই খোলস পাল্টে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদেরকেই বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, পদ না পেয়ে কেঁদে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে এসেছে। তিনি জানান, তাদের ইউনিটে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়দেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারী গত এক বছরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ রাখেননি। ফলে তারা ধরে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো আর ছাত্রদলের রাজনীতি করছেন না। কমিটি নিয়ে ঢালাওভাবে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।

আরও পড়ুন