পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছেন বলে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের দাবি করলেও পুলিশ বলছে, এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং বলেন, ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাস্তায় নামাজ পড়া বরদাস্ত করা হবে না। তবে পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রাস্তা আটকে যেকোনো ধর্মীয় উপাসনার ক্ষেত্রেই কঠোর হতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে নামাজ বন্ধের কোনো উল্লেখ নেই।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর পুলিশ ও জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়। এসব আদেশের মধ্যে রয়েছে রাস্তা আটকে উপাসনা না করা, মাইকের শব্দ ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখা, হেলমেটবিহীন বাইক চালানো বন্ধ করা, এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুর্গাপূজা, রমজান, ঈদের মতো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগের মতোই অনুমতি সাপেক্ষে রাস্তায় জমায়েত ও উপাসনা করা যাবে।
অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল সেলিম বলেন, কাটা মাংস ঢেকে বিক্রি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা সমর্থনযোগ্য। তবে অর্জুন সিংয়ের দাবি অহেতুক বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্জুন সিং আরও বলেন, গরু পাচার, চোরাচালান ও পুলিশের ওপর হামলার বিরুদ্ধেও কঠোর হয়েছে সরকার।
এদিকে, কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের কাছে অবস্থিত মসজিদটি ‘সসম্মানে’ অন্য জায়গায় সরানোর কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমান চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালভিয়া এই দাবি জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা বন্ধ করে উপাসনার সংস্কৃতি নতুন নয়। দুর্গাপূজা, ঈদ, জগদ্ধাত্রী পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে রাস্তা বন্ধ করে অস্থায়ী মণ্ডপ ও নামাজের আয়োজন করা হয়। কলকাতার রেড রোডে প্রতি ঈদে নামাজ পড়তে বহু মানুষ জড়ো হন, যা সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে করা হয়।
