চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে ইরানের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সরাসরি অংশ নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তেহরানের ছোড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সেনারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে আল অ্যারাবিয়াকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সরকারি কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্রাথমিক মূল্যায়ন এখনও চলছে, তবে এটি নিশ্চিত যে মার্কিন বাহিনী সফলভাবে একাধিক ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এই প্রতিরক্ষা অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক উভয় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
বর্তমানে ইসরাইলে শত শত মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত বহুজাতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করছেন, আবার কেউ কেউ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যকলাপে সরাসরি সহযোগিতা দিচ্ছেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, ইরান এই হামলায় প্রায় ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
গত দুই বছরের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষায় সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরাইলি ভূখণ্ডে ইরানের প্রথম সরাসরি হামলায় মার্কিন বাহিনী ৩০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীতে একই বছরের শেষের দিকে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার এবং অন্যান্য আঞ্চলিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইরানের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, নৌজাহাজ এবং প্রায় ৫০,০০০ এরও বেশি সেনা। তবে চলতি সপ্তাহের এই অভিযানে ঠিক কোন কোন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
