ইসরাইলি কারাগারে বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ

ইসরাইলি কারাগারে বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ

ইসরাইলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নিয়মিতভাবে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আল জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক বন্দিরা তাদের ওপর হওয়া এ নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই যৌন সহিংসতা একটি ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাজার সাবেক সরকারি চাকরিজীবী মুহাম্মদ আল-বাকরি জানান, ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের দিনে তাকে এবং আরও সাতজন বন্দিকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয় এবং তাদের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়।

আল-বাকরি বলেন, “আমরা যখন যন্ত্রণায় সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছিলাম, তখন ইসরাইলি সেনারা হাসছিল।” তিনি আরও জানান, কর্মকর্তাদের নির্দেশে বন্দিদের ওপর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়েও নির্যাতন চালানো হতো। একইরকম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন গাজার এক দিনমজুর, যিনি বলেন, নারী সেনারা তাকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর যৌন নির্যাতনের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো, তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ বর্বরতা নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে ইসরাইল কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতার প্রমাণ মিলেছে।

তবে এ ধরনের অপরাধের জন্য কোনো ইসরাইলি সেনা বা রক্ষীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘সদে তেইমান’ ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে এক বন্দিকে ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ১০ জন রক্ষীকে আটক করা হলেও, পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ভিডিও প্রকাশকে দেশের জন্য একটি মারাত্মক ‘পাবলিক রিলেশনস বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ জানান, এই নির্যাতনের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক কষ্ট দেওয়া নয়, বরং একজন মানুষের আত্মসম্মান এবং মানসিক সত্ত্বাকে ধ্বংস করা।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন এই ধরনের যৌন সহিংসতা সুপরিকল্পিতভাবে ঘটে, তখন তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হয়। গাজায় ২০২৫ সালে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি হলেও ফিলিস্তিনিদের বন্দি করা এবং তাদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন