৪০ দিন ধরে চলা সংঘাত এবং দুই মাসের স্থবিরতা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ পয়েন্টের সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য রাজি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে।
গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন চুক্তির খসড়া পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ৬ মে জানিয়েছিলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে পারব।”
যুক্তরাষ্ট্র খসড়া পাঠানোর পর ইরানকে রাজি করাতে পাকিস্তান ও কাতার ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের প্রচেষ্টার ফলে প্রায় দেড় মাস পর চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয় ইরান।
চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তাই ১৪টি পয়েন্টের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে সূত্রের মাধ্যমে কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। চুক্তির মূল পয়েন্টগুলো হলো:
১. যাবতীয় হামলা-সহিংসতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে।
২. বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।
৩. ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
৪. চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না।
৫. ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
৬. সমঝোতা চুক্তির পর চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু হবে।
৭. বিদেশি ব্যাংকে ফ্রিজড ইরানি অর্থ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৮. ইরানকে ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ থামাতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্প সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।
৯. ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনা হবে।
১০. মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১১. যুদ্ধের কারণে ইরানের আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত আলোচনা শুরু হবে।
১২. চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত সম্পর্কিত আলোচনা শুরু হবে।
১৩. ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম স্বাক্ষরের পর অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পর্কিত আলোচনা শুরু হবে।
সূত্র: এএফপি, ইন্ডিয়া টুডে
