বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মুখ ঢেকে তুরস্কের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার কারণে লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের তারকা ফুটবলার মিগুয়েল আলমিরন। শনিবার সান ফ্রান্সিসকোতে তুরস্কের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। তবে ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জিতেছে ১০ জনের প্যারাগুয়ে।
৩২ বছর বয়সী আলমিরন তুরস্কের খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরের সঙ্গে কথা বলার সময় হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ কর্মকর্তার নজরে আনেন মুলদুর। পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি ইভান বার্টন আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনাটি ঘটে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, তখন প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল।
বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সাবেক আয়ারল্যান্ড স্ট্রাইকার ক্লিনটন মরিসন বলেন, ‘নিয়ম জানা থাকলে এমন কাজ করা উচিত নয়। সবাই হয়তো সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হবে না, কিন্তু নিয়ম যদি এমনই হয়, তাহলে তা মানতে হবে।’
১০ জন নিয়ে ম্যাচের বাকি সময় খেলেও প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে তুরস্ককে হারায়। শেষ গ্রুপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে তারা শেষ ৩২-এ উঠবে।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখ ঢেকে কথা বলার বিরুদ্ধে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বিশেষ সভায় নিয়মটি অনুমোদন পায়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগে বলেছিলেন, মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারিদের ধরে নেওয়া উচিত যে খেলোয়াড় হয়তো এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না। তবে লাল কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। পরে তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে বর্ণবাদ নয়, সমকামীবিদ্বেষমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার তিন ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও নতুন এক নিয়মের কারণে আলোচনায় ছিলেন আলমিরন। ওই ম্যাচে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিমকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায় আলমিরন ডাইভ দিয়েছিলেন। পরে হলুদ কার্ডটি রিমের বদলে আলমিরনকে দেওয়া হয়।
