প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করনীতি, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার আনার কথা উল্লেখ করেন। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগের সরকার তলাবিহীন অর্থনীতি রেখে গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক ফতুর করে দিয়েছিল এবং ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করে নিয়ে গেছে। বিশাল ঋণের বোঝা রেখে যাওয়ায় অর্থনীতি চালু করার দায়িত্ব পাওয়ার পর দিশা খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন স্বস্তি পাচ্ছেন কারণ তারা অবস্থার মোকাবিলা করতে পেরেছেন এবং নতুন অর্থনীতির বুনিয়াদ রচনা করে রেখে যেতে পারছেন। আন্তর্জাতিক লেনদেনে সমস্যা হবে না এবং রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ক্রমেই বাড়ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজার তদারকি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শ্রমিক অধিকারকে মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনসমূহ অনুসমর্থন করা হয়েছে, যা কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে। যুগান্তকারী নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে আইন সংশোধন, বিদেশে আইনি সহায়তা, নতুন শ্রমচুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কাঠামোতে সংস্কারের মাধ্যমে ইউরোপীয় সর্ববৃহৎ বিনিয়োগসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্প এগিয়েছে।
ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রবন্দর, মৎস্য ও আধুনিক টাউনশিপ উন্নয়নে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয়।
রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনরায় বিশ্ব মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সমস্যার টেকসই সমাধানে সহায়তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, পাশাপাশি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
