ডায়াবেটিস রোগীদের নিরাপদে রোজা রাখার জন্য চিকিৎসকদের একটি গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখা সম্ভব—তা তুলে ধরা হয়েছে।
গাইডলাইন তৈরির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, অনেক ডায়াবেটিস রোগী নিয়ম মেনে ওষুধ ও খাবার গ্রহণ করলেও রোজার সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা অন্যান্য সমস্যায় পড়েন। এ কারণে রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য একটি সমন্বিত নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া। তাই নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি। প্রথম কয়েক দিন দিনে পাঁচবার গ্লুকোজ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—সকালে, বেলা ১১টা, বিকাল ৪টা, ইফতারের আগে এবং ইফতারের দুই ঘণ্টা পরে।
ওষুধ ও খাবারের সময়সূচিও সমন্বয় করতে হবে। সাধারণত সকালের ওষুধ ইফতারে এবং রাতের ওষুধ সেহরিতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইনসুলিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সেহরির ডোজ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৩ দশমিক ৯-এর নিচে নেমে গেলে বা ১৬ দশমিক ৭-এর বেশি হলে রোজা চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত খাবার বা ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া অসুস্থতা, যেমন কোভিড-১৯ সংক্রমণ, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রোজার সময় দিনের বেলায় ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীই নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
