অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানের সামনে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার জন্য প্রায় ৯ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। দলটি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় রাজস্ব বাড়ানোর বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনো নেই।

অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবেদনে বড় পরিকল্পনার পাশাপাশি ‘উচ্চ-প্রভাবশালী ছোট ছোট প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসনকে শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং আর্থিক খাত মেরামত করতে হবে। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।

কৃষি খাত থেকে জিডিপির ১২ শতাংশ আসে এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষ এই খাতে যুক্ত। খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দমন ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রবাসী কর্মীদের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা আরেকটি অগ্রাধিকার, যা আইএমএফের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি প্রতিবছর চাকরির জন্য বিদেশে যান, যা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার পথ। তবে শ্রম রফতানি খাতে দুর্নীতি ও শোষণ বিদ্যমান, এবং কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। উচ্চ সুদহার ও বণ্টনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তারেক রহমানের জন্য বড় পরীক্ষা। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পোশাক রফতানির বৃহত্তম বাজার এবং জ্বালানি খাতে শীর্ষ বিনিয়োগকারী।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিএনপিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। দিল্লির সঙ্গে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে, আসিয়ানে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করা হলেও সার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা একটি অকার্যকর সংস্থা হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন