চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের বিজয়, বিএনপির দুর্বলতা বিশ্লেষণ

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের বিজয়, বিএনপির দুর্বলতা বিশ্লেষণ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দখলে রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।

স্বাধীনতার পর থেকেই এ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জামায়াতের তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন, নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছিল। নারী, প্রবাসী ও পোস্টাল ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতের পক্ষে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

জামায়াত শুরু থেকেই একক প্রার্থী ঘোষণা করে এবং ফেব্রুয়ারি থেকে প্রচারণা চালায়। অন্যদিকে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির মুখোমুখি হয়। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল এবং দীর্ঘদিন দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ না হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ ছিলেন।

বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া অভিযোগ করেন, প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পেশীশক্তি ও কালো টাকার মাধ্যমে তাদের প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এলাকাবাসীর আস্থা ও ভালোবাসার ফল এই বিজয় এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ফলাফল জামায়াতের সংগঠনের দৃঢ়তা ও পরিকল্পিত কৌশলের পাশাপাশি বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা নির্দেশ করে। ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের এক তরফা নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি-জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে ছিল না, কিন্তু বর্তমান অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জামায়াত তা পুনরুদ্ধার করেছে।

আরও পড়ুন